ছবি আঁকার প্রাথমিক ধাপ হলো সরলরেখা,বক্ররেখা,ত্রিভুজ আয়তক্ষেত্র,বর্গক্ষেত্র,ট্রাপিজিয়াম ,রম্বস, সামন্তরিক ,বৃত্ত ,অর্ধবৃত্ত, বহুভুজাকৃতি,ডিম্বাকৃতি ইত্যাদি।এগুলি প্রত্যেকটি এক একটি আকার। ছবি আঁকতে গেলে প্রথমেই আমাদের এই আকার গুলি ভালো করে অভ্যাস করতে হবে। যত বেশি অভ্যাস করবো পরবর্তী কালে আমরা যে কোনো ছবি অনায়াসে আঁকতে পারবো।
যে রেখা এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে পৌঁছতে কোনো দিক পরিববর্তন করে না তাকে সরলরেখা বলে।
![]() |
| Straight line |
সরলরেখা আঁকার পদ্ধতি:
সরল রেখা আঁকতে গেলে প্রথমে খাতার বামদিকে একটা বিন্দু নিতে হবে ,তারপর ওই সমান্তরালে কিছুটা দূরে আর একটি বিন্দু নেবো তারপর দুটি বিন্দুকে সরলভাবে যোগ করে দেব। সরলরেখা আঁকতে গেলে রেখাটি বামদিক থেকে ডানদিকে টানবো।নিচে সরল রেখার চিত্র দেওয়া হলো।
যে রেখা একটি বিন্দু থেকে আর একটা বিন্দুতে সোজাসুজি না গিয়ে, দিক পরিবর্তন করে তাকেই বক্ররেখা বলে।
![]() |
| Curved line |
বক্ররেখা আঁকার পদ্ধতি:
বক্ররেখা রেখা
আঁকতে গেলে প্রথমে খাতার বামদিকে বিন্দু নিয়ে নেবো তারপর কিছুটা দুরে আর একটা
বিন্দু নিয়ে নেবো। এরপর রেখাটি আঁকাবাঁকা করে টেনে নেবো। নিচে তার চিত্র টি দেওয়া
হলো।
তিনটি সরলরেখা দ্বারা আবদ্ধ চিত্রকে ত্রিভুজ বলে।
ত্রিভুজ আঁকার পদ্ধতি:
আমরা প্রথমে একটি বিন্দু নেবো তারপর ওই বিন্দু থেকে কোণ করে দুটি লম্ব রেখা টানবো, তারপর ওই লম্ব রেখা দুটিকে সরল ভাবে টেনে নেবো।নিচে চিত্র টি দেখানো হলো।
যে চতুর্ভুজের পরস্পর বিপরীত বাহু গুলি সমানও সমান্তরাল এবং কোনগুলি সমকোণ তাকে বলবো আয়তক্ষেত্র।
![]() |
| Rectangle |
আয়তক্ষেত্র আঁকার পদ্ধতি:
প্রথমে একটি
সরলরেখা টানবো তারপর ওই সরলরেখার দুটি বিন্দু থেকেই ওপর নীচ লম্ব রেখা টেনে নেবো তারপর ওই লম্ব রেখা দুটিকে
যোগ্ করে দেব। নিচে চিত্র দেখানো হলো।
যার চারটি বাহু সমান ও অন্তঃস্থ কোণ সমকোণ তাকেই বর্গক্ষেত্র বা চতুর্ভুজ বলে।
![]() |
| Square |
চতুর্ভুজ আঁকার পদ্ধতি:
প্রথমে একটি সরলরেখা টানবো তারপর ওই সরলরেখার দুটি বিন্দু থেকেই ওপর নীচ লম্ব রেখা টেনে নেবো তারপর ওই লম্ব রেখা দুটিকে যোগ্য করে দেব। নিচে চিত্র দেখানো হলো।
যার বিপরীত বাহু সমান ও সমান্তরাল এবং বিপরীত কোণদ্বয় সমান এবং কর্ণদ্বয় পরস্পরকে সমকোণে সমদ্বিখন্ডিত করে তাকে সামন্তরিক বলে।
সামন্তরিক আঁকার পদ্ধতি:
প্রথমে একটি সরলরেখা টানবো তারপর বামদিকের বিন্দু থেকে নিচের দিকে লম্বটি সোজাসুজি না টেনে বামদিক করে একটু এগিয়ে নেবো একই ভাবে ওপর দিকের বাহুটি বামদিক করে চেপে টানব। তারপর নিচের বিন্দু দুটি ওপরের সরলরেখার সমান্তরালে টানবো।চিত্রটি দেখানো হলো।
একটি বিন্দুকে কেন্দ্র করে তার সমান দূরত্বে এবং একই সমতলে অবস্থিত সমস্ত বিন্দুর সংকলনকে বৃত্ত বলে।
![]() |
| Circle |
বৃত্ত আঁকার পদ্ধতি:
প্রথমে একটি
বিন্দু নিলাম তারপর ওই বিন্দু কে কেন্দ্র করে
কিছুটা দূরে বামদিক থেকে ডানদিকে গোল করে যুক্ত করতে হবে।নিচে ছবিটি দেখানো
হলো।
একটি বৃত্তকে ব্যাস দ্বারা সমান ভাগে ভাগ করলে তাকে অর্ধবৃত্ত বলে অথবা বৃত্তের অর্দ্ধেক কে অর্ধবৃত্ত বলে।
![]() |
| Ordhobritto |
অর্ধবৃত্ত আঁকারপদ্ধতি:
প্রথমে একটি সরলরেখা টানতে হবে তারপর বামদিকের বিন্দু থেকে ডানদিকের বিন্দুতে বাঁকিয়ে যুক্ত করতে হবে। নিচে চিত্রটি দেখানো হলো।
যে চতুর্ভুজের বিপরীত দুই বাহু সমান্তরাল ,সমান নয় ওপর দুই বাহু অসমান্তরাল ,সমান নয় ও কোনো কোণ ই সমকোণ নয় তাকে ট্রাপিজিয়াম বলে।
![]() |
| Trapezium |
প্রথমে আমি একটি সরলরেখা টানবো। তারপর চিত্রের মতো স্টেপ বাই স্টেপ আঁকার চেষ্টা করবো।
রম্বস হলো সামন্তরিকের বিশিষ্ট রূপ। যে চতুর্ভুজের চারটি বাহুর দৈর্ঘ্য সমান তাকে রম্বস বলে। রম্বসের বিপরীত বাহু গুলি পরস্পর সমান। আর বিপরীত কোনগুলিও সমান।
রম্বস আঁকার পদ্ধতি:
প্রথমে একটি সরলরেখা টানবো তারপর বামদিকের বিন্দু থেকে নিচের দিকে লম্বটি সোজাসুজি না টেনে বামদিক করে একটু এগিয়ে নেবো একই ভাবে ওপর দিকের বাহুটি বামদিক করে চেপে টানব। তারপর নিচের বিন্দু দুটি ওপরের সরলরেখার সমান্তরালে টানবো। রম্বসের ক্ষেত্রে চারটি বাহুই সমান হবে। চিত্রটি দেখানো হলো।
সরলরেখাংশ যুক্ত যে বদ্ধ সমতলিক চিত্রে তিনটি
বা তিনটির বেশি
সরলরেখাংশ আছে তাদের বহুভুজ বলে। এই আঁকাটি স্টেপ বাই স্টেপ নিচে দেখানো হলো।











0 Comments